গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিন
সূচিপত্রঃ চিয়া সিড খাওয়ার যাবতীয় গুণাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
- চিয়া সিড কি
- গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
- চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
- চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
- চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা
- সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
- চিয়া সিড এর পুষ্টিগুণ
- বাচ্চাদের জন্য চিয়া সিড এর উপকারিতা
- চিয়া সিড দিয়ে চুলের যত্ন
- চিয়া সিড দিয়ে রূপচর্চা
- চিয়া সিড সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
- লেখকের শেষ কথা
চিয়া সিড কি
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা গর্ভকালীন সময়ে চিয়া সিড খেলে এর কি কি উপকারিতা পাওয়া যাবে এবং কিভাবে খেতে হবে তা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
উপকারিতাঃ
গর্ভকালীন সময়ে চিয়া সিড খাওয়ার ফলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যায়। কেননা এতে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, প্রোটিন, ফাইবার ইত্যাদি পুষ্টিকর উপাদান। এ সকল পুষ্টিকর উপাদান মা ও শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে চিয়া সিড খাওয়ার ফলে নবগত শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের উন্নতি হয়ে থাকে।
কেননা এতে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। তাছাড়াও এতে থাকা ফাইবার নামক উপাদান গর্ভকালীন সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে হজম প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। তাছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে সন্তানের বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে প্রোটিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই গর্ভকালীন সময়ে চিয়া সিড খাওয়ার ফলে যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায়। এজন্য আপনারা গর্ভকালীন সময়ে ডায়েটে চিয়া সিড রাখতে পারেন।
এছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠনে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার প্রয়োজন। আর এজন্য আপনি যদি এই সময় ডায়েটে চিয়া সিড রাখতে পারেন, তাহলে এখান থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম পেয়ে থাকবেন। যা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে বিশেষ সহায়তা করে থাকবে। তাছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে চিয়া সিড খাওয়ার ফলে গর্ভবতী মায়ের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
কেননা এতে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি আসিড এবং প্রোটিন। যা একজন গর্ভবতী মায়ের শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে থাকে। গর্ভকালীন সময়ে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। সেজন্য ডায়েটে চিয়া সিড রাখা প্রয়োজন। এটি খাওয়ার ফলে এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও আয়রন নামক উপাদান পাওয়া যায়। যা রক্তস্বল্পতা দূর করার কাজে সহায়তা করে। এছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে ডায়েটে চিয়া সিড রাখা প্রয়োজন। কেননা এতে রয়েছে ফাইবার নামক উপাদান।
এই উপাদানটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা এই সময় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে গর্ভপাতের ঝুকি থাকে। এমনকি এটি নবাগত শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই সময় চিয়া সিড খেতে পারেন। এটি খাওয়ার ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়।
খাওয়ার নিয়মঃ
- গর্ভকালীন সময়ে নিয়মিত ১ থেকে ২ চামচ চিয়া সিড খাওয়া যেতে পারে। তবে এটি বেশি পরিমাণে এই সময় খাওয়া ঠিক হবে না। এটি অতিরিক্ত খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, এসিডিটি, বদ হজম ইত্যাদি নানান সমস্যা তৈরি হতে পারে। এছাড়াও এটি আগে না খেলে শুরুতে এটি অল্প অল্প করে খাওয়া উচিত।
- গর্ভকালীন সময়ে চিয়া সিড সহজে হজম করার জন্য ১ গ্লাস পানিতে ১ থেকে ২ চামচ চিয়া সিড মিস করে দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর খেয়ে নিতে হবে। এছাড়াও এটি ফলের জুস, দই, দুধ ইত্যাদির সাথে মিস করেও খাওয়া যায়।
- গর্ভকালীন সময়ে সকালে নাস্তা করার সময় ওটমিল কিংবা সালাতের সাথে এটি মিস করে খাওয়া যেতে পারে। এভাবে খেলে সবচাইতে ভালো হয়। তাছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে চিয়া সিড এর সাথে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে চা তৈরি করে খাওয়া যায়।
- গর্ভকালীন সময়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১ গ্লাস পানিতে চিয়া সিড মিশিয়ে রেখে দিতে পারেন। তারপর সকালে উঠে চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখা পানিসহ চিয়া সিড খেয়ে নিতে পারেন। তাছাড়াও এটি আপনারা কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খেতে পারেন। এভাবে খেলেও এর উপকারিতা গুলো পাওয়া যায়।
- গর্ভকালীন সময়ে নিয়মিত ২৮ গ্রাম চিয়া সিড খাওয়া যেতে পারে। এই সময় এই পরিমাণই খাওয়া নিরাপদ। কেননা এই সময় এটি বেশি খেলে নানা রকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত এটি সকালে খালি পেটে খাওয়া যেতে পারে। এর ফলে এর উপকারিতা গুলো পাওয়া যায়।
গর্ভকালীন সময়ে কাদের চিয়া সিড এড়িয়ে চলতে হবেঃ
গর্ভকালীন সময়ে যে সকল মায়েদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার জনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের এই সময় এটি খাওয়া নিরাপদ হবে না। কেননা তারা এই সময় এটি খেলে পেট ফাঁপা কিংবা গ্যাসের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাছাড়াও নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থাকলে এটি খাওয়া এই সময় নিরাপদ হবে না। কেননা এটি রক্তচাপ আরও কমিয়ে দিতে পারে।
এছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে যে সকল মায়েদের চিয়া সিড খাওয়ার ফলে এলার্জি সমস্যা তৈরি হতে পারে, সে সকল মায়েদের এই সময় এটি খাওয়া নিরাপদ হবে না। কেননা এই সময় এটি খেলে ত্বকে চুলকানি, ফুসকুড়ি ইত্যাদি নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। এছাড়াও ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে এটি খাওয়া নিরাপদ হবে না।
কেননা এটি রক্তে শর্করার মাত্রা আরো কমিয়ে দিতে পারে। তাছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে পেটের সমস্যা থাকলে চিয়া সিড এড়িয়ে চলতে পারেন। কেননা এই সময় এটি খাওয়ার ফলে পেটের নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকায় ফাইবারের সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
- চিয়া সিড খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। কেননা চিয়া সিডে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস। এই উপাদান গুলো আমাদের শরীরের হাড়কে শক্তিশালী করে তুলতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি অস্ট্রিওপোরেসিস প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রাখে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য চিয়া সিড বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা চিয়া সিড খাওয়ার ফলে এতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। যা শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে থাকে।
- চিয়া সিড খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এমনকি এটি শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতেও পারে। কেননা এতে রয়েছে সালমন মাছের চেয়ে ৮ গুণেরও বেশি ওমেগা ৩ ফ্যাটি আসিড। যা এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে।
- চিয়া সিড নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর। এটি খাওয়ার ফলে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সহ আরো নানা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। যা শরীরকে সুস্থ রাখার কাজে সহায়তা করে থাকে।
- যারা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তারা চাইলে চিয়া সিড খেতে পারেন। কেননা এটি খাওয়ার ফলে এতে থাকা উচ্চ ফাইবার ক্ষুদা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি শোষণ করে। ফলে পেট পরিপূর্ণ হয়ে যায়। যার দরুন শরীরে কম ক্যালোরি পাওয়া যায়। যা আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।
- শরীরের নানা প্রদাহ কমানোর ক্ষেত্রে চিয়া সিড কাজ করে থাকে। কেননা এতে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। যার প্রদাহ বিরোধী শক্তি রয়েছে। যার ফলে যে কোন ধরনের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিয়া সিড খেতে পারেন।
- চিয়া সিডে প্রোটিন নামক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। যা পেশীর মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এমনকি এটি পেশীর বৃদ্ধিতেও দারুণ কাজ করে থাকে। যারা নিয়মিত খেলাধুলা করেন তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী হবে।
- চিয়া সিড খাওয়ার ফলে অনেক চিকিৎসক মনে করেন খুব ভালো ঘুম হয়। সেই সাথে এটি খাওয়ার ফলে গ্যাসের সমস্যা প্রতিরোধ হয়ে থাকে। এমনকি এটি শরীরের নখ, চুল এবং ত্বকের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। পাশাপাশি এটি আমাদের শরীর থেকে যাবতীয় বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতেও সহায়তা করে।
- হজমের সমস্যা দূর করার জন্য চিয়া সিড খাওয়া যেতে পারে। কেননা এটি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। আর ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হওয়ার কারণে এটি খাওয়ার ফলে নিয়মিত মলতাগ হয়ে থাকে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও এটি সহায়তা করে থাকে।
- চিয়া সিড খাওয়ার ফলে মলাসয় পরিষ্কার থাকে। যার ফলে কোলন ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। পাশাপাশি এটি খাওয়ার ফলে হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা ভালো হয়ে থাকে।
- যাদের ডায়াবেটিসের আশঙ্কা রয়েছে তারা চাইলে চিয়া সিড খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এটি খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- চিয়া সিড মানবদেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা এটি খাওয়ার ফলে মুরগির ডিমের চেয়ে ৩ গুণ বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। যা মানবদেহকে সুস্থ রাখার কাজে সহায়তা করে থাকে।
- চিয়া সিড খাওয়ার ফলে এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম শরীরকে সিথিল করে রাখার কাজে সহায়তা করে। পাশাপাশি ট্রিপ্টোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড সেরোটোনিণে রুপান্তর হওয়ার কারণে খারাপ থাকা মেজাজ ভালো হয়ে যায়।
- চিয়া সিড খাওয়ার ফলে কাজে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি এটি মেধা শক্তি বিকশিত করার কাজেও সহায়তা করে থাকে। এমনকি এটি একাগ্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
- চিয়া সিড ত্বকের যত্নে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বলিরেখা দূর করার কাজে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য ত্বকের ব্রণের সমস্যা দূর করে থাকে। সেই সাথে এতে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে কাজ করে।
চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা
সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা

চিয়া সিড এর পুষ্টিগুণ
- ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে স্যামন মাছের চেয়ে ৮ গুণ বেশি
- ক্যালসিয়াম রয়েছে দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশি
- ভিটামিন সি রয়েছে কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি
- প্রোটিন রয়েছে মুরগির ডিমের চেয়ে ৩ গুণ বেশি
- পটাশিয়াম রয়েছে কলার চেয়ে ২ গুণ বেশি
- আইরন রয়েছে পালং শাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশি
পুষ্টি উপাদান | পরিমান |
---|---|
ম্যাগনেসিয়াম | ৩৩৫ মিলিগ্রাম |
জিংক | ৪.৬ মিলিগ্রাম |
ক্যালসিয়াম | ৬৩১ মিলিগ্রাম |
লৌহ | ৭.৭ মিলিগ্রাম |
ম্যাঙ্গানিজ | ২.৭২ মিলিগ্রাম |
ফসফরাস | ৮৬০ মিলিগ্রাম |
পটাশিয়াম | ৪০৭ মিলিগ্রাম |
ভিটামিন সি | ১.৬ মিলিগ্রাম |
ভিটামিন ই | ০.৫ মিলিগ্রাম |
পানি | ৫.৮ গ্রাম |
প্রোটিন | ১৬.৫ গ্রাম |
শর্করা | ৪২.১ গ্রাম |
শক্তি | ৪৮৬ কিলোক্যালরি |
ফ্যাট | ৩৪.৪ গ্রাম |
কার্বোহাইড্রেট | ৩৪.৪ গ্রাম |
ফাইবার | ৩৪.৪ গ্রাম |
ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড | ১৭.৮ গ্রাম |
ভিটামিন কে | ১.২ মাক্রোগ্রাম |
ফোলেট | ৪০ মাইক্রোগ্রাম |
দস্তা | ৩.৬ মিলিগ্রাম |
বাচ্চাদের জন্য চিয়া সিড এর উপকারিতা
- চিয়া সিড দুধের সাথে মিশিয়ে কিংবা পানিতে মিশিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ানো যেতে পারে।
- চিয়া সিড দইয়ের সাথে মিশিয়ে কিংবা ওটমিলের সাথে মিশিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ানো যেতে পারে।
- চিয়া সিড খিচুড়ির সাথে মিশিয়ে কিংবা সেরেলাক এর সাথে মিশিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ানো যেতে পারে।
- চিয়া সিড ফলের রসের সাথে কিংবা শরবতের সাথে মিশিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ানো যেতে পারে।
- চিয়া সিড বাচ্চাদের নুডুলস কিংবা স্যুপের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।
- চিয়া সিড বাচ্চাদের সুজির সাথে মিশিয়ে কিংবা সাঙ্গুর সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।
চিয়া সিড দিয়ে চুলের যত্ন
- এজন্য প্রথমে আপনারা একটি প্যান নিয়ে তাতে হালকা জল দিয়ে হালকা জাল দিয়ে ফুটাতে থাকুন। তারপর এতে চাল ধোয়া পানি যোগ করে ফেলুন। কিছুক্ষণ এভাবে এই দুইটি উপকরণ জাল দিতে থাকুন। তারপর এগুলোতে নতুন করে ৩ চামচ চিয়া সিড ১ চামচ ভিটামিন ই অয়েল মিশিয়ে দিন। এরপর এই সবগুলো উপকরণকে বেশ কিছুক্ষণ জাল দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন।
- তারপর যখন দেখবেন এই মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে ঘন আকার ধারণ করেছে তখন তা ছ্যাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে নিবেন। তারপর অন্য একটি পাত্র নিয়ে তাতে রেখে দিবেন। তাহলেই হয়ে গেল চিয়া সিড দিয়ে চুলের যত্নে হেয়ার প্যাক।
- এবার আপনারা চুলে এই প্যাকটি ব্যবহার করার আগে চুলকে কয়েক ভাগে ভাগ করে নিবেন। তারপর চুলে পানি স্প্রে করে এই হেয়ার প্যাকটি প্রথমে চুলের গোড়ায় তারপর চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে দিবেন। এরপর ১ ঘন্টা এভাবে রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলবেন। এই হেয়ার প্যাকটি ব্যবহারে চুলের নানা উপকার সাধিত হয়ে থাকবে।
- এজন্য প্রথমে আপনাদের ১ চামচ চিয়া সিড নিতে হবে, নিতে হবে ২ চামচ হালকা গরম নারিকেল তেল। এরপর এই দুইটি উপকরণকে একসঙ্গে মিস করে মাথার স্কাল্পে লাগিয়ে দিন। ১ ঘন্টা মতো লাগিয়ে রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে তা ধুয়ে ফেলবেন। এই হেয়ার প্যাকটি ব্যবহার করার ফলে এটি আপনার চুলকে সঠিকভাবে পুষ্টি যোগিয়ে চুলের শুষ্ক ও ভঙ্গুর ভাব দূর করবে।
- এজন্য প্রথমে আপনাদের নারিকেল তেল নিতে হবে, চিয়া সিড নিতে হবে, অলিভ অয়েল নিতে হবে। এরপর এই তিনটি উপকরণকে একসঙ্গে মিস করে এই তেল চুলের গোড়ায় ভালোভাবে লাগাতে হবে। এই হেয়ার প্যাকটি ব্যবহারে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে চুলের পাক ধরার সমস্যা প্রতিরোধ হবে। মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন সঠিকভাবে হবে এবং চুলকে গোড়া থেকে পুষ্টি জোগাবে।
- এজন্য প্রথমে আপনাদের এক গ্লাস পানিতে ১ চামচ চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখতে হবে। ভিজিয়ে রাখার পর এটি যখন জেলের আকার ধারণ করবে তখন এতে ৬ চামচ নারিকেল তেল দিতে হবে। আরো দিতে হবে ২ চামচ আপেল সিডার ভিনেগার এবং সর্বশেষ এতে কিছু পরিমাণ মধু দিয়ে দিতে হবে।
- তারপর এই পুরো মিশ্রণটিকে মাইক্রোওয়েভে ৩০ সেকেন্ড মতো রেখে দিয়ে গরম করে নিতে হবে। এরপর এটি যখন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় চলে আসবে, তখন এটি চুলে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই হেয়ার প্যাকটি সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
চিয়া সিড দিয়ে রূপচর্চা
- এজন্য প্রথমে আপনাদের ১ গ্লাস পানিতে চিয়া সিড সারারাত ধরে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর সকালে এটি যখন জেলির মতো দেখাবে তখন এটি ত্বকে ভালোভাবে লাগিয়ে দিতে হবে। এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহারে ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর হবে। এছাড়াও এই প্যাকটি ব্যবহারে ত্বক ভিতর থেকে সতেজ ও উজ্জ্বলময় হয়ে উঠবে।
- এজন্য প্রথমে আপনাদের ১ গ্লাস পানিতে চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর যখন এটি জেলির মতো হয়ে যাবে, তখন এতে অলিভ অয়েল মিশিয়ে দিতে হবে। আরও মিশাতে হবে ১ চামচ মধু। এরপর এই তিনটি উপকরণকে একসঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে নিন।
- তারপর এটি ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে ত্বকের যাবতীয় দাগ দূর হবে এবং ত্বককে আগের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল ময় করে তুলতে এটি সহায়তা করবে।
- এজন্য প্রথমে আপনাদের চিয়া সিড নিতে হবে, নিতে হবে ওটস, আরো নিতে হবে অ্যালোভেরা জেল। এরপর এই তিনটি উপকরণকে একসঙ্গে মিস করে ত্বকে লাগিয়ে দিতে হবে। ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। ত্বকে এটি ভালোভাবে ম্যাসাজ করে লাগাতে হবে। এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহারে ত্বকের ব্রণের সমস্যা দূর হবে। একই সঙ্গে এটি ত্বককে পরিষ্কার করতে সহায়তা করবে।
- এজন্য প্রথমে আপনাদের ১টি পাত্রে ২ চামচ গরম দুধ নিতে হবে, এরপর এতে ১ চামচ চিয়া সিড মিশিয়ে দিয়ে ১ ঘন্টার মতো রেখে দিতে হবে। এরপর যখন চিয়া সিড জেলির মতো আকার ধারণ করবে তখন এতে ১ চামচ এলোভেরা জেল এবং ১ চামচ মধু মিশিয়ে দিতে হবে।
- এছাড়াও আপনারা যদি চান এতে ১ চামচ লেবুর রস মিস করে দিতে পারেন, যদি আপনার ত্বক সংবেদনশীল না হয়। তাহলেই হয়ে গেল নতুন একটি ফেসপ্যাক।
- এই ফেসপ্যাকটি লাগানোর আগে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলবেন। এরপর মুখে গলায় ভালোভাবে এই ফেসপ্যাকটি লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করবেন। এরপর তা ধুয়ে ফেলবেন। এটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করার ফলে ত্বকের স্বচ্ছ ভাব ফুটে উঠবে।
- এজন্য প্রথমে আপনাদের ১ চামচ চিয়া সিড নিতে হবে। নিতে হবে ২ চামচ নারিকেল তেল এবং আরো নিতে হবে ১ চামচ লেবুর রস। এরপর এই তিনটি উপকরণকে একসঙ্গে মিক্স করে ২০ মিনিট এভাবেই রেখে দেন। যখন দেখবেন ২০ মিনিট পর জেল তৈরি হয়ে গেছে তখন এই জেল ত্বকে লাগিয়ে ৩০ অপেক্ষা করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।
রিটেক্স আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url