গোল মরিচের ১৭টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
গোল মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনারা বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।
গোল মরিচের নানা উপকারিতা ও অপকারিতা রয়েছে। যেগুলো আমাদের হয়তো সেই ভাবে জানা
নেই। তাই এগুলো বিস্তারিত জানতে পারেন।
গোল মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের
দেওয়া লেখা গুলো খুব যত্ন সহকারে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই মূলত আপনারা
গোল মরিচের যাবতীয় গুনাগুন গুলো বিস্তারিত জানতে পারবেন।
সূচিপত্রঃ গোল মরিচের যাবতীয় গুনাগুন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
গোল মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা
গোল মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে
আমরা গোল মরিচের যাবতীয় উপকারিতা গুলো এবং অপকারিতা গুলো আপনাদের বিস্তারিত
জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো। ভারতীয় উপমহাদেশ হচ্ছে গোল মরিচের আদিভূমি।
প্রাচীনকাল থেকে খাদ্যে মসলা হিসেবে গোল মরিচের ব্যবহার হয়ে আসছে। লতা জাতীয় এই
উদ্ভিদটিকে রোদে শুকিয়ে খাদ্যের মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
এই মসলাটি শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয় না বরং এই
মসলাটিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। গোল মরিচ
আকারে ছোট হলেও এই মরিচের রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ। এই মরিচ সাধারণত তার
স্বাদ ও গন্ধের জন্য পরিচিত। গোল মরিচের যে সকল পুষ্টি উপাদান রয়েছে সেগুলোর
মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, দস্তা এবং
পটাশিয়াম। চলুন তাই নিচের আলোচনা থেকে গোল মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো
বিস্তারিত দেখে আসি।
গোল মরিচের উপকারিতা
গোল মরিচের উপকারিতা জানতে পারলে আপনারা নানান অসুখ-বিসুখ থেকে রক্ষা পেতে
পারবেন। তাই আজকের এই পর্বে আমরা গোল মরিচের যাবতীয় উপকারিতা গুলো বিস্তারিতভাবে
আলোচনা করার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে নিচের আলোচনা থেকে গোলমরিচের উপকারিতা গুলো
জেনে নেওয়া যাক।
কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে - কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য হালকা গরম
পানিতে গোল মরিচের গুড়া মিশিয়ে দিন। এরপর হালকাভাবে ভালোভাবে এটি নেড়ে নিয়ে
অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে খেয়ে ফেলুন। এটি খাওয়ার ফলে দেহের শক্তি বৃদ্ধি পায়
এবং কর্মক্ষমতা বেড়ে থাকে। আপনি যদি গোল মরিচের এই পানিটি সকালবেলা খেতে পারেন,
তাহলে এসিডিটি থেকে দূরে থাকতে পারবেন।
ঠান্ডা কাশি সমস্যা কমায় - গোল মরিচ খাওয়ার ফলে ঠান্ডা কাশি সমস্যা
সমাধান হয়ে থাকে। কেননা নিয়মিত আপনি যদি গোল মরিচ খেতে পারেন তাহলে আপনার বিটা
ক্যারোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। যা ঠান্ডা কাশি উপশম করতে সাহায্য করে থাকে। তাই
যাদের ঘন ঘন ঠান্ডা লাগে বা কাশি হয় তারা নিয়মিত কয়েকটি গোল মরিচ চিবিয়ে খেতে
পারেন। এতে এ ধরনের সমস্যা থেকে অল্প সময়ের মধ্যে মুক্তি পাবেন।
ত্বক ভালো রাখে - আপনার ত্বককে ভালো রাখার জন্য বাইরে থেকে ত্বকের
যত্ন নিলেই হবে না বরং ত্বককে ভালো রাখতে উপযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। গোল মরিচ
তেমন একটি খাবারের নাম যেটি খাওয়ার ফলে ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা দূর হয়ে থাকে
এবং ত্বককে সুন্দর করে তোলে। গোল মরিচ নিয়মিত খাওয়ার ফলে ত্বকের কালো দাগ দূর
হয়ে থাকে, ত্বকের ব্রণের সমস্যা প্রতিরোধ হয় এবং ত্বকে অকালে বয়সের ছাপ পড়া
প্রতিরোধ হয়ে থাকে। তাই আপনারা ত্বকের যত্নে গোল মরিচ খেতে পারেন।
ওজন কমাতে সাহায্য করে - যারা শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে অনেক বেশি
চিন্তিত তারা গোল মরিচ খেতে পারেন। কেননা গোল মরিচ খাওয়ার ফলে এর বেশ কিছু
গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিপাকের হার বাড়াতে সহায়তা করে থাকে। যার কারণে দ্রুত ওজন
কমে থাকে। তাই শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চাইলে নিয়মিত গোল মরিচ খাওয়ার অভ্যাস
গড়ে তুলুন।
পেটের জন্য দরকারি - যারা পেটের নানা সমস্যায় আক্রান্ত তাদের জন্য
গোলমরিচ অত্যন্ত উপকারী। এই মরিচ খাওয়ার ফলে এটি পেটের হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডকে
নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যার কারণে গোল মরিচ খাওয়ার ফলে এসিডিটির পরিমাণ কমে থাকে।
তাছাড়াও এই মসলাটি প্রোটিন ভাঙতে সহায়তা করে থাকে। যার ফলে শরীর এটি সহজেই
গ্রহন করতে পারে। তাই পেটের নানা সমস্যার জন্য নিয়মিত গোল মরিচ খেতে
পারেন।
মস্তিষ্কের জন্য ভালো - গোল মরিচ মস্তিষ্কের জন্য বেশ ভালো কাজ করে
থাকে। গোল মরিচে রয়েছে পিপারাইন নামক এক ধরনের উপাদান। যার ফলে এটি খাওয়ার
ফলে মস্তিষ্ক ভালো থাকে। বিশেষ করে গোল মরিচ খাওয়ার ফলে পার্কিনসনস এবং
অ্যালঝাই মার্সের মতো অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই আপনারা আপনাদের
স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে নিয়মিত গোলমরিচ খেতে পারেন।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে - ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে গোলমরিচ কাজ করে
থাকে। কেননা গোল মরিচের মধ্যে রয়েছে পিপারাইন নামক এক ধরনের উপাদান। যেটি
ক্যান্সারের ওষুধ হিসেবে কাজ করে থাকে। এছাড়াও গোলমরিচে রয়েছে ভিটামিন এ,
ভিটামিন সি এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা আমাদের শরীরের ক্ষতিকর
ফ্রি রেডিকেলের এবং ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে থাকে। তাই
আপনারা নিয়মিত গোল মরিচ খেতে পারেন।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে - অনেক সময় দেখা যায় বৃষ্টির সময়ে
ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসায় আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে
যায়। তাই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য গোলমরিচ খাওয়া যেতে
পারে। কেননা এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে গোলমরিচ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে থাকে।
হজম ক্ষমতা বাড়ায় - আপনারা যদি খাদ্য তালিকায় গোল মরিচ রাখতে
পারেন। তাহলে আপনাদের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকবে। এটি খাদ্য তালিকায় যোগ
করলে পেটের নানা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, পেট ফাঁপা, গ্যাস, এসিডিটি ইত্যাদি নানান
সমস্যা থেকে দূরে থাকা যাবে। এছাড়াও গোলমরিচ যেহেতু হাইড্রক্লোরিক এসিডের
নিঃসরণ বৃদ্ধি করে থাকে সেহেতু এটি পাচনতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ
করে থাকে।
ব্যথা কমাতে সাহায্য করে - দাঁতের ক্যাভিটি কিংবা ব্যাথা থাকলে
গোলমরিচ মুখে দিয়ে চিবাতে হবে। এর ফলে দাঁতের এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ হয়ে
থাকবে। এছাড়াও গোল মরিচ নাকের বন্ধ থাকা দূর করে, হাঁপানি সমস্যা থাকলে সেটিও
প্রতিরোধ করে থাকে। তাছাড়াও আপনি যদি এক কাপ পানিতে এক চামচ গোল মরিচের গুড়া
এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করেন তাহলে শ্লেষ্মা এবং গলা ব্যথার সমস্যা থেকে
রক্ষা পাওয়া যাবে।
ধূমপানের আসক্তি কমায় - যারা অতিরিক্ত ধূমপান করেন এবং কোন মতেই
ধূমপানের আসক্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারছেন না। তাদের জন্য গোল মরিচ অত্যন্ত
উপকারী হতে পারে। আপনি যদি নিয়মিত গোল মরিচের তেলের গন্ধ নিতে পারেন কিংবা
সরাসরি গোল মরিচ খেতে পারেন। তাহলে ধূমপানের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে নিজেকে বের করে
আনতে পারবেন।
হার্টের জন্য উপকারী - গোল মরিচ আপনার হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী
ভূমিকা পালন করবে। এটি যদি আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন, তাহলে আপনার
রক্তচাপ কমবে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এটি ব্যাপক সহায়তা করে থাকবে। যা
আপনার হার্টের জন্য দুর্দান্ত উপকারী।
সংক্রমণ প্রতিরোধ করে - গোল মরিচ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ
করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা গোল মরিচ এ রয়েছে
অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুনাগুন। যেটি নানা ধরনের সংক্রমনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ
আন্দোলন গড়ে তোলে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে গোল মরিচে থাকা পিপারাইন নামক
উপাদান বিভিন্ন ধরনের জীবাণুন হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে থাকে।
বাত ও আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে - গোল মরিচ থেকে তৈরিকৃত তেল বাতের
ব্যথা এবং আর্থ্রাইটিসের জন্য ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অনেক
সময় দেখা যায় অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় গোল মরিচের তেল ব্যবহার করে বাত ও
আর্থ্রাইটিসের ব্যথা প্রতিরোধ করে থাকে। তাই আপনারা বাতের ব্যথা এবং আর্থ্রাইটিস
প্রতিরোধে গোল মরিচের তেলকে কাজে লাগাতে পারেন।
মানসিক চাপ কমাতে - মানসিক চাপ বা বিষ্নতা কমাতে গোল মরিচ দুর্দান্ত
কাজ করে থাকে। গোল মরিচ থেকে বেশ কিছু তেল তৈরি হয়। যে তেল গুলো শরীরে মালিশ
করার ফলে শরীরের সারাদিনের ক্লান্তি ভাব দূর হয়ে যায়। তাছাড়াও এই তেল
মাথায় মালিশ করলে মাথা ব্যাথা এবং চাপ কমে যায়। যার ফলে শান্তিময় ঘুম হয়। আর
এর কারণেই গোল মরিচ ব্যবহার করার ফলে মানসিক চাপ বা বিষন্নতা দূর হয়ে
থাকে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে - ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে গোল মরিচ
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা গোল মরিচে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
যেটি রক্তে গ্লুকোজের উচ্চ পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে থাকে এবং সেই
সাথে এটি হাইপারগ্লাইসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে। এক গবেষণা থেকে
দেখা গেছে যে গোল মরিচের তেলে থাকা বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর উপাদান দুই ধরনের
এনজাইম সৃষ্টি করতে পারে। যেটি মূলত স্টার্চকে গ্লুকোজে পরিণত হতে সহায়তা করে
থাকে। যার কারণে গোল মরিচ খেলে ডায়াবেটিসের প্রবণতা কমে থাকে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে - গোল মরিচ আপনার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে
সহায়তা করে থাকে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেল
ইত্যাদি নানা রোগ হতে পারে। তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি
গুরুত্বপূর্ণ। গোল মরিচ খেলে শরীরে থাকা ক্ষতিকর লিপিডকে এটি কমাতে সাহায্য করে।
তাই হাইকোলেস্টেরল রোগীদের জন্য নিয়মিত গোল মরিচ খাওয়া উচিত।
গোল মরিচের অপকারিতা
গোল মরিচের যেমন নানা উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি গোল মরিচের অপকারিতাও রয়েছে।
আজকের এই পর্বে আমরা গোল মরিচের যাবতীয় অপকারিতা গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরার
চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক। গোল মরিচ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে
ভালো। তবে এটি অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন। কেননা এটি অতিরিক্ত
খেলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কারণ এতে পাইপারিন নামক একটি উপাদান রয়েছে।
যেটি মস্তিষ্কের উপর সামান্য উত্তেজক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও যারা ব্লাড
থিনার নিচ্ছেন তাদের জন্য এই সময় অতিরিক্ত গোল মরিচ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কারণ এটি রক্ত প্রবাহে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাছাড়াও অতিরিক্ত পরিমাণে গোল
মরিচ খাওয়ার ফলে মুখে ও গলায় জ্বালাপোড়া করতে পারে। সেই সাথে খুসখুসে কাশি ও
শুকনো ভাব হতে পারে। এছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে একজন মায়ের অতিরিক্ত পরিমাণে গোল
মরিচ খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে।
কারণ এই সময় অতিরিক্ত গোল মরিচ খেলে পেটের জ্বালাপোড়া সমস্যা তৈরি হওয়া বা
হরমোনের প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়াও অনেক সময় কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গোল মরিচ
খাওয়ার ফলে এলার্জির সমস্যা তৈরি হয়। আর অ্যালার্জি সমস্যা তৈরি হলে ত্বকে
চুলকানি, ফুসকুড়ি কিংবা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা যায়। তাই যাদের এ ধরনের সমস্যা
হবে তারা এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এছাড়াও গোলমরিচ অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে
পেটের নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ মৌরি খাওয়ার ১৯টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
যেমন পেট ফাঁপা, গ্যাস, এসিডিটি, বদহজম ইত্যাদি। অতিরিক্ত গোলমরিচ যুক্ত খাবার
খেলে কিডনিতে ও লিভারে জ্বালাপোড়া, ফোলাভাব ও অনন্যা নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তাই এটি সীমিত পরিমাণে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তাহলেই গোল মরিচের উপকারিতা গুলো
পেতে পারবেন।
গোল মরিচ খাওয়ার নিয়ম
গোল মরিচ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা গোল
মরিচ খাওয়ার যাবতীয় নিয়ম সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা
করবো। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। গোল মরিচ খাওয়ার বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। যে
নিয়মগুলো মেনে খেলে গোল মরিচের যাবতীয় উপকারিতা গুলো খুব সহজে পাওয়া যেতে
পারে। নিচের আলোচনায় সেগুলো দেখানো হলোঃ
- গোলমরিচের উপকারিতা পাওয়ার জন্য এটি সকালে নিয়মিত খালি পেটে চিবিয়ে খেতে হবে। এটি সকালে নিয়মিত খালি পেটে চিবিয়ে খাওয়ার ফলে অ্যানিমিয়া, ডায়াবেটিস, পিরিয়ড বিলম্ব হওয়ার মতো রোগ, হরমোনের ভারসাম্য ইত্যাদি নানা সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং শ্বাসকষ্ট সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে মধু ও গোল মরিচকে একসঙ্গে মিস করে খেতে পারেন। এজন্য আপনারা হলুদ ও মধুর সঙ্গে এক চামচ গোল মরিচ গুঁড়া মিশিয়ে পান করবেন। তাহলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শ্বাসকষ্ট সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
- আপনারা অনেক সময় বাড়িতে সুপ তৈরি করেন। এরপর যখন আপনারা বাড়িতে সুপ তৈরি করবেন তখন এর সাথে গোল মরিচের গুড়া মিশিয়ে দিবেন। এতে নানা উপকার পাবেন।
- আপনারা যখন হলুদ মেশানো দুধ পান করবেন। তখন এর সাথে গোল মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দিতে পারেন।
- এক কাপ পরিমাণ পানি চুলাই দিয়ে দিন। এরপর এই পানিতে আধা ইঞ্চি আদা কেটে দিয়ে দিন। এই পানি ফুটে আসলে এতে এক চামচ চা পাতা ও এক কাপ পরিমাণ দুধ দিয়ে দিন। এবার এটি আরো ভালোভাবে ফুটে আসলে এক চামচ গোল মরিচের গুড়া দিয়ে দিন। তারপর কয়েক মিনিট পর নামিয়ে দিয়ে এই পানি ছেঁকে পান করুন।
- আপনারা যখন বাড়িতে কাঁচা আমের বা লেবুর শরবত পরিবেশন করবেন। তখন তার সাথে গোল মরিচের গুড়া মিস করে দিবেন। এর ফলে চমৎকার স্বাদ ও গন্ধ অনুভব করতে পারবেন। যেটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- আপনারা যখন বাড়িতে মসলাযুক্ত চা খাবেন। তখন সেখানে গোলমরিচ গুড়া মিশিয়ে দিতে পারেন।
- গোল মরিচের সঙ্গে লবণ মিস করে খেতে পারেন। এভাবে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
- গোলমরিচের সঙ্গে বিট লবণ খেতে পারেন। এভাবে খাওয়ার ফলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
কালো গোল মরিচের উপকারিতা
কালো গোল মরিচের উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা
কালো গোলম রিচের উপকারিতা গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে
জেনে নেয়া যাক। কালো গোল মরিচেরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে। নিজের
আলোচনায় সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখানো হলোঃ
- কালো মরিচের টুকরো শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে থাকে। তাই খাবারে কালো গোল মরিচ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও হজমের সমস্যা প্রতিরোধে কালো গোল মরিচ খাওয়া যেতে পারে। এটি খাওয়ার ফলে হজম, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য সহ আরো নানা সমস্যা প্রতিরোধ হয়ে থাকে।
- অনেকেই ধূমপান ছাড়তে চাই। কিন্তু ধূমপানের আসক্তি থাকায় এটি ছাড়তে পারে না। তারা তাদের খাদ্য তালিকায় কালো গোল মরিচ রাখতে পারে। এটা নিয়মিত খাওয়ার ফলে ধূমপানের অভ্যাস দূর হয়ে যাবে।
- কালো গোল মরিচ খাওয়ার ফলে কাশি ও ঠান্ডা প্রতিরোধ হয়ে থাকে। কেননা কালো গোল মরিচে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুনাগুন। যা এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও কালো গোল মরিচ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। যার কারণে এটি খেলে এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি বায়োটিক হিসেবে কাজ করে থাকে।
- কালো গোলমরিচ ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে থাকে। কেননা এতে রয়েছে পাইপেরিন নামক এক ধরনের উপাদান। তাছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ক্যারোটিন সহ অন্যান্য নানা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা ক্ষতিকর ফ্রি রেডিকেলস অপসারণ করতে সহায়তা করে। এর ফলে ক্যান্সার সহ আরো নানা রোগ প্রতিরোধ হয়ে থাকে।
- আপনার যদি দাঁতের ক্ষয় বা ব্যথা হয়, তাহলে কালো গোল মরিচ মুখে রাখতে পারেন। এতে করে আপনার এ ধরনের সমস্যাগুলো প্রতিরোধ হয়ে থাকবে।
- আপনার যদি নাক বন্ধ হয়ে থাকে কিংবা হাঁপানির মত সমস্যায তৈরি হয় তাহলে আপনি কালো গোল মরিচ খেতে পারেন। এই সমস্যাগুলোর জন্য কালো গোলমরিচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
গোল মরিচের গুড়ার দাম
গোল মরিচের গুড়ার দাম সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা
গোল মরিচের গুড়ার দাম কেমন হতে পারে সেই সম্পর্কে আলোকপাত করার চেষ্টা
করবো। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক। গোল মরিচ একটি মসলার নাম। এটি রান্নায়
স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শুধু এই মরিচ রান্নার স্বাদ
বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয় না বরং এটি খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের নানা
উপকার সাধন হয়ে থাকে।
আপনারা জানতে চেয়েছেন এই গোলমরিচের গুড়ার দাম কেমন হতে পারে। সাধারণত ৫০
গ্রাম গোল মরিচের গুড়ার দাম ১৪০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা হয়ে থাকে। আর ১০০
গ্রাম গোল মরিচের গুড়ার দাম ২৩০ টাকা হয়ে থাকে। গোল মরিচের আবার বিভিন্ন
প্রকারভেদ রয়েছে। এর মধ্যে সাদা গোল মরিচের গুড়ার দাম তুলনামূলকভাবে একটু
বেশি হয়ে থাকে। ৫০ গ্রাম সাদা গোল মরিচের গুঁড়ার দাম ১৩০ টাকা করে। আর ১০০
গ্রাম সাদা গোল মরিচের দাম ২০০ টাকা করে। গোল মরিচ সাধারণত আপনারা স্থানীয়
মুদি দোকানে কিংবা বড় বড় দোকানগুলোতে পেয়ে যেতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ খালি পেটে এলাচ খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
এছাড়াও আপনি চাইলে অনলাইন থেকেও গোল মরিচের গুড়া অর্ডার দিতে পারেন। বিভিন্ন
ওয়েবসাইট গুলোতে স্বল্প মূল্যে গোল মরিচের গুঁড়া বিক্রি হয়ে থাকে। আশা করছি
আপনারা গোল মরিচের দাম কেমন হতে পারে সেই সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। এছাড়াও
আপনারা উপরের আলোচনা থেকে গোল মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে
বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।
কালো ও সাদা গোল মরিচের মধ্যে পার্থক্য
কালো ও সাদা গোল মরিচের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত জেনে নেওয়া
প্রয়োজন। তাহলে আপনারা কালো ও সাদা গোল মরিচ কোনটা কোন দিক দিয়ে এগিয়ে তা
সম্পর্কে জানতে পারবেন। চলুন তাহলে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
রংয়ের পার্থক্য - কালো ও সাদা গোলমরিচের মধ্যে পার্থক্য করতে গেলে
প্রথমে যেটা আসে সেটা হলো এদের রংয়ের পার্থক্য। অর্থাৎ এদের রং ভিন্ন ভিন্ন
ধরনের হয়ে থাকে। কালো গোল মরিচ সাধারণত গাঢ় রঙের হয়ে থাকে। আর অন্যদিকে সাদা
গোল মরিচ সাদা রঙের হয়ে থাকে।
স্বাদের পার্থক্য - সাদা ও কালো গোল মরিচের মধ্যে
স্বাদের পার্থক্য হয়ে থাকে। কালো মরিচের সাধারণত শক্তিশালী একটি গন্ধ
রয়েছে। এছাড়াও এটি তিক্ত স্বাদের হয়ে থাকে। অন্যদিকে সাদা গোল মরিচ কালো গোল
মরিচের তুলনায় হালকা ও কম মসলাযুক্ত স্বাদ হয়ে থাকে এবং সেই সাথে এর মিষ্টি
ধরনের স্বাদ হয়ে থাকে।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পার্থক্য - কালো মরিচ সাধারণত পাকা বেরি থেকে
পাওয়া যায়। এটি মূলত রোদে শুকিয়ে কিংবা চুলায় শুকিয়ে পাওয়া যায়। অন্যদিকে
সাদা গোল মরিচ একই বেরি থেকে পাওয়া যায়। তবে সাদা গোল মরিচগুলো পাকা হওয়ার
আগেই বাছাই করে নেওয়া হয় এবং সেইসাথে বেরির বাইরের অংশ অপসারণ করার জন্য বেশ
কিছুদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। তারপর রোদে বা চুলায় শুকিয়ে নেওয়া হয়।
এভাবে সাদা গোল মরিচ প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।
রান্নায় ব্যবহারে পার্থক্য - কালো মরিচ সাধারণত মাছ, মাংস, সবজি,
সুপ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে সাদা গোল মরিচ হালকা গন্ধযুক্ত খাবার
গুলোতে ব্যবহার করা হয়। যেমন সস, ক্রিম ইত্যাদি।
ঔষধি গুণাবলিতে পার্থক্য - কালো গোল মরিচ এবং সাদা গোলমরিচ উভয় মরিচের
ভেতর ঔষধি গুনাগুন রয়েছে। সাধারণত কালো গোল মরিচ প্রাকৃতিক পাচনতন্ত্রের উদ্দীপক
হিসেবে কাজ করে থাকে এবং সেই সাথে এটি পুষ্টির শোষণ বাড়াতে সহায়তা করে থাকে।
অন্যদিকে সাদা গোলমরিচ শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকের সমস্যায় গুরুত্পূর্ণ ভূমিকা পালন
করে থাকে।
আরো পড়ুনঃ লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে কি হয় জানুন বিস্তারিত তথ্য
দামের পার্থক্য - সাধারণত কালো গোল মরিচের তুলনায় সাদা গোল মরিচের
দাম তুলনামূলকভাবে একটু বেশি হয়ে থাকে। তাই আপনাদের যেটি প্রয়োজন সেটি নিতে
পারেন। এছাড়াও আপনারা উপরের আলোচনা থেকে গোল মরিচের উপকারিতা ও
অপকারিতা এবং গোল মরিচ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কেও বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।
গোল মরিচের পুষ্টিগুণ
গোল মরিচের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা গোল
মরিচের যাবতীয় পুষ্টিগুণ গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে
জেনে নেওয়া যাক। গোল মরিচ মূলত লতা জাতীয় একটি উদ্ভিদ। এর ফলকে শুকিয়ে মসলা
হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সাধারণত গোল মরিচের আদি উৎস দক্ষিণ ভারতে। প্রাচীনকাল থেকেই ইউরোপীয় সমাজে
গোল মরিচের গুঁড়া মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই মশলাটি রান্নার স্বাদ
বৃদ্ধির পাশাপাশি ঔষধি গুনাগুন হিসেবেও ব্যাপক পরিচিত। মূলত গোল মরিচে থাকা
নানা পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন ধরনের অসুখ বিসুখ প্রতিরোধ করতে ভূমিকা পালন করে
থাকে। নিচে এ সকল পুষ্টি উপাদান গুলো তুলে ধরা হলো।গোল মরিচে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশেষ করে এতে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন এ এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে। যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
আরো পড়ুনঃ জায়ফল এর ১৪টি উপকারিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানুন
প্রতি ১০০ গ্রাম গোলমরিচে-
প্রোটিন রয়েছে ১১.৫ গ্রাম, ফ্যাট রয়েছে ৬.৮ গ্রাম, শর্করা রয়েছে ৮৯.২ গ্রাম,
ক্যালসিয়াম রয়েছে ৮৬০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস রয়েছে ১৯৮ মিলিগ্রাম, আয়রন
রয়েছে ১৬.৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ রয়েছে ১৮০০ আইইউ, ভিটামিন বি-১ রয়েছে ০.০৯
মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ২ রয়েছে ১.৪ মিলিগ্রাম এবং নিয়াসিন রয়েছে ১.৪
মিলিগ্রাম।
সাদা গোল মরিচের উপকারিতা
সাদা গোল মরিচের উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা
সাদা গোল মরিচের যত গুণ রয়েছে সেই সম্পর্কে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো। চলুন
তাহলে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। সাদা গোল মরিচের রয়েছে নানা স্বাস্থ্য
উপকারিতা। সাদা গোল মরিচ নানা পুষ্টি গুণে ভরপুর। সাদা গোল মরিচের যাবতীয়
উপকারিতা গুলো নিচের আলোচনায় দেখানো হলোঃ
ওজন নিয়ন্ত্রণে - সাদা গোল মরিচ ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে।
কেননা এতে রয়েছে ক্যাপসাইকিন নামক এক ধরনের উপাদান। যেটি শরীরের অভ্যন্তরে চর্বি
পোড়াতে সহায়তা করে থাকে। যার ফলে সাদা গোলমরিচ খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ব্যথা নিরাময়ে - সাদা গোল মরিচ ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে থাকে।
বিশেষ করে এই মসলাটি তাপ উৎপন্ন করে থাকে এবং স্প্যামস বা স্প্রেনের ব্যথা
দূর করতে সহায়তা করে থাকে।
মাথা ব্যথা নিরাময়ে - সাদা গোল মরিচ খাওয়ার ফলে মাথা ব্যথা দূর
হয়ে থাকে। কেননা ক্যাপসাইকিন নিউরোপপটিড সংক্রমণ আটকে রাখতে সহায়তা
করে থাকে। যার ফলে মাথা ব্যাথা দূর হয়ে যায়।
সর্দি কাশি নিরাময়ে - আপনি যদি গলা ব্যাথার সমস্যা তৈরি হয়। তাহলে
সাদা গোলমরিচ খেতে পারেন। এর অ্যান্টিসেফটিক গুনাগুন গলা ব্যাথা থেকে শুরু করে
সর্দি-কাশি নিরাময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে - সাদা গোল মরিচ মূলত উচ্চ রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে। সাদা গোল মরিচ সাধারণত ভিটামিন এ এবং সি
সমৃদ্ধ। যেটি মূলত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে
থাকে। তাই আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় সাদা গোলমরিচ যুক্ত করতে পারেন।
এছাড়াও আপনারা উপরের আলোচনা থেকে গোল মরিচের উপকারিতা ও
অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।
লেখকের শেষ কথা
উপরের আলোচনা থেকে আমরা গোল মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত
জেনে এসেছি। আমরা আরও জানতে সক্ষম হয়েছি গোল মরিচ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কেও।
গোলমরিচ সাধারণত একটি মসলার নাম। এই মসলাটি রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য
ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এই মসলাটি শুধুমাত্র রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্যই
ব্যবহার হয়ে থাকে না বরং এটি বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে সহায়তা করে থাকে। অর্থাৎ এর
রয়েছে নানা ঔষধি গুনাগুন।
যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি উপরের আলোচনায় গোল
মরিচের যাবতীয় উপকারিতা এবং অপকারিতা গুলো বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।
সেই সাথে এটি কিভাবে খেলে এর সম্পূর্ণ উপকারিতা গুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে সেগুলো
আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আপনারা উপরের আলোচনাটি পড়ার মাধ্যমে উপকৃত
হতে পারবেন।
রিটেক্স আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url