তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর ১১টি উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। কারণ দিন দিন ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এটি কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে ভালো করা যায় সেই সম্পর্কে জানা উচিত।

তাড়াতাড়ি-ডায়াবেটিস-কমানোর-উপায়
তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের দেওয়া লেখাগুলো খুব যত্ন সহকারে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই মূলত আপনারা ডায়াবেটিস প্রতিরোধের যাবতীয় উপায় গুলো সহজেই জানতে পারবেন।

সূচিপত্রঃ ডায়াবেটিস প্রতিরোধের যাবতীয় উপায় গুলো বিস্তারিত জেনে নিন 

ডায়াবেটিস কি এবং কত প্রকার

ডায়াবেটিস কি এবং কত প্রকার এই সম্পর্কে আপনাদের প্রথমে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে ডায়াবেটিসের লক্ষণ এবং এখান থেকে উদ্ধারের উপায় সম্পর্কে জানতে হবে। আজকের এই পর্বে আমরা ডায়াবেটিস কি এবং কত প্রকার সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে তা জেনে নেওয়া যাক। 

ডায়াবেটিস কি 

ডায়াবেটিস বলতে বুঝায় মূলত একটি মেটাবলিজম ডিসঅর্ডারকে। যেখানে শরীর ইনসুলিন হরমোনের যথাযথ ব্যবহার করতে পারেনা। কিংবা যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপাদন করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইন্সুলিনের অভাবে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ জমা হয়। যার ফলে বিভিন্ন অঙ্গ পতঙ্গের ক্ষতি হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিস কত প্রকার

ডায়াবেটিস মূলত ২ প্রকার টাইপ ১ এবং টাইপ ২। সাধারণত টাইপ ১ শিশু ও কিশোরদের মধ্যে দেখা যায়। যেখানে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে থাকে। আর টাইপ ২ হলো সবচেয়ে সাধারণ ধরণ যা মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি শারীরিক এবং জীবনযাত্রার কারণে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ফলে হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ সমূহ

ডায়াবেটিসের লক্ষণ সমূহ সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা ডায়াবেটিস এর যাবতীয় লক্ষণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে তা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে আগেভাগেই সতর্ক থাকলে এই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়। অর্থাৎ শারীরিক পরিশ্রম, খাদ্যাভাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঠিকঠাক আনতে পারলেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। আমরা আজকে নিচের আলোচনা থেকে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার যাবতীয় লক্ষণগুলো সম্পর্কে জেনে নিবোঃ
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং পিপাসা লাগা। 
  • চোখে কম দেখতে শুরু করা।
  • বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।
  • চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব তৈরি হয়।
  • শরীরে ক্ষত বা কাঁটাছেঁড়া হলে সেটা দীর্ঘ দিন যাবত ভালো না হওয়া।
  • কোন কারণ ছাড়ায় হঠাৎ অনেক ওজন কমে যাওয়া।
  • মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া।
  • সময় মতো খাওয়া দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া।
  • ক্ষুধার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।
  • দুর্বল লাগা, ঘোর ঘোর ভাব আশা।

তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর উপায় 

তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কিভাবে ডায়াবেটিস কমানো যায় সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। বর্তমান সময়ে যতগুলো ঝুঁকিপূর্ণ রোগ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। এর সঠিক পরিচর্যা করতে না পারলে জীবন ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে।

এক জরিপ থেকে দেখা গেছে যে বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক কোটি দশ লাখ। এর মধ্যে শুধুমাত্র ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লাখ। এছাড়াও ৩৫ বছর এর উপর বয়সী ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ লাখ। ডায়াবেটিস গোটা পৃথিবীর তুলনায় দক্ষিণ পূর্বে এসিয়াই এ রোগের প্রবণতা সবচাইতে বেশি।

দিন দিন এই রোগটির পাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। আমাদের দেশের কথা চিন্তা করলে শহরে এ রোগের পাদুর্ভাব বাড়ার পাশাপাশি গ্রাম অঞ্চলেও এর পাদুর্ভাব বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। নিচের আলোচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায় গুলো দেখানো হলোঃ

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাঃ

ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা পেতে হলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ডায়াবেটিস নয়, ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ডায়াবেটিস সহ আরো নানা রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই আপনার প্রথম কাজ হবে আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো। আপনি যদি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তাহলে ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা ৭০% বেড়ে যাবে।

নিয়মিত ব্লাড সুগার চেকআপঃ

তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর সবচাইতে কার্যকরী উপায় হলো নিয়মিত ব্লাড সুগার চেকআপ করা। আপনি আপনার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি মাসে একবার অথবা প্রতি তিন মাস অন্তর একবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে পারেন। এটি করার ফলে আপনার বর্তমান অবস্থা কেমন তার উপর নির্ভর করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।

নিয়মিত ওষুধ গ্রহণঃ

ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের কিছু ওষুধ গ্রহণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই এই সময় নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতে ভুলা যাবে না। কোন ওষুধ খাবারের আগে খেতে হবে, কোন ওষুধ খাবারের পরে খেতে হবে তা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে জেনে নিতে হবে। তারপর খেতে হবে।

হাঁটাহাঁটি করাঃ

ডায়াবেটিস থেকে বেঁচে থাকার জাদুকরী উপায় হতে পারে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা। আপনি যদি নিয়মিত ৪০ মিনিট করে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। তাহলে আপনার শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকবে। যার ফলে ডায়াবেটিস থেকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বহু গুনে বেড়ে যাবে।

খাবারে সতর্কতাঃ

খাবার খাওয়ার প্রতি অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সকলের নাস্তায় অবশ্যই ওটমিল, বার্লি, ব্রাউন, রাইম, ভুট্টা, বাজরা ইত্যাদি শস্য জাতীয় খাবার গুলো সকালের নাস্তায় খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এর ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে আসবে। তাছাড়াও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্যগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি নানান রোগ থেকে রক্ষা করে থাকে। এছাড়াও চিনি জাতীয় যত খাবার রয়েছে সেগুলো বাদ দিতে হবে। চিনি শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। এভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে হবে।

সবজি খাওয়াঃ

ডায়াবেটিস থেকে বেঁচে থাকতে হলে প্রতিদিন এক বাটি করে সবজি বা সালাদ খেতে হবে। যার মধ্যে থাকতে পারে গাজর, শসা, লেটুস, টমেটো, ব্রকলি, ফুলকপি ইত্যাদি নানান সবজি। প্রতিদিন দুপুর বা রাতে খাবার খাওয়ার আগে এ ধরনের সবজি বা সালাদ গুলো খেতে হবে। সালাদে এক চা চামচ ভিনেগার যুক্ত করে খাওয়া যেতে পারে। ভিনেগার রক্তকে কম মাত্রায় সুগার শোষণে সাহায্য করে থাকে। আর রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ধূমপান ত্যাগ করাঃ

ধূমপানের ফলে নানা ধরনের রোগ তৈরি হয়ে থাকে। ফুসফুস ক্যান্সারের মতো ভয়ংকর রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস রোগ হয়ে থাকে ধূমপানের কারণে। যার কারণে আপনি যদি ডায়াবেটিস থেকে বেঁচে থাকতে চান, তাহলে ধূমপান করা বন্ধ করতে হবে।

পর্যাপ্ত ঘুমঃ

ডায়াবেটিস থেকে বেঁচে থাকতে হলে পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। যা ডাইবেটিস হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ। তাই পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা করতে হবে।

ব্যায়াম করাঃ

নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে আপনি মাঝারি ওজন পেতে পারেন এবং সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন। দ্রুত হাঁটাচলা, ওজন উত্তোলন, দৌড়ানো, নাচ, হাইকিং, বাইক চালানো ও সাঁতার কাটা ইত্যাদি ব্যায়ামগুলো করার মাধ্যমে আপনি আপনার সুগার লেভেল এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ হয়ে থাকে। তাছাড়া প্রি ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।

পানি পান করাঃ

নিয়মিত পানি পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রাখা যায়। এটি ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধের পাশাপাশি এটি প্রসবের মাধ্যমেও অতিরিক্ত চিনি বের করে দেয় যা আপনার কিডনি ভালো রাখতে সহায়তা করে থাকে। এক গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে যারা বেশি পরিমাণে পানি খায় তাদের রক্তের সুগার লেভেল বাড়ার ঝুকি কম থাকে। তাই নিয়মিত পানি পান করলে রক্তকে রিহাইড্রেট করা সহজ হয়। এছাড়াও রক্তের শর্করার মাত্রা কমায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করে থাকে।

স্ট্রেস লেভেল নিয়ন্ত্রণ করাঃ

ডায়াবেটিস থেকে বেঁচে থাকার জন্য স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে হবে। কেননা স্ট্রেস বা মানসিক চাপ রক্তের সুগার লেভেলকে প্রভাবিত করে থাকে। গ্লুকাগণ এবং কোর্টিসলের মতো এক ধরনের হরমোন স্ট্রেসের সময় নির্গত হয়ে থাকে। এই হরমোন গুলির কারণে রক্তের সুগার লেভেল বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। যার কারণে আপনি যদি ব্যায়াম এবং মেডিটেশন করতে পারেন তাহলে স্ট্রেস এবং রক্তে সুগার লেভেল কমানো যেতে পারে। তাছাড়াও ব্যায়াম বা রিলাক্সেশন মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে থাকে। যার কারণে রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে। আর এর ফলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়।

ডায়াবেটিস কমানোর প্রাকৃতিক উপায়

ডায়াবেটিস কমানোর প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা ডায়াবেটিস কমানোর প্রাকৃতিক উপায় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। আজকাল প্রতিনিয়ত ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডায়াবেটিস যদি প্রাকৃতিক উপায়ে প্রতিরোধ করা যায় তাহলে তো কোন কথাই নেই। নিচের আলোচনায় প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায় গুলো জানানো হলোঃ

ডুমুরঃ পুষ্টিবিদদের মতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ডুমুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা ডুমুরের মধ্যে ফাইবারের পরিমাণ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। আর এই ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ভূমিকা পালন করে থাকে। যা ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকরী। এছাড়াও গবেষকরা দেখেছেন যে ডুমুরের পাতা ইনসুলিন প্রতিরোধের উন্নতিতেও ব্যাপক উপকারী। তাই ডুমুর খেতে পারেন।

মেথিঃ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করার জন্য সবচাইতে আদর্শ উপায় হলো মেথি খাওয়া। দুই চামচ মেথি বীজ এক গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে ঘুম থেকে উঠে মেথি সহ এই পানি খেয়ে নিতে হবে। কারণ মেথি বীজের জৈব উপাদান ইনসুলিনকে উদ্দীপিত করে। তাছাড়াও এতে থাকা উচ্চ ফাইবার স্টার্চকে গ্লুকোজে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। যার ফলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য মেথি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যালোভেরাঃ অ্যালোভেরা জেলে ফাইটোস্ট্যারলস নামক এক ধরনের শক্তিশালী উপাদান রয়েছে। যা মূলত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে। এক গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে  ফাইটোস্ট্যারলসের  অ্যান্টিহাইপার গ্লাইসেমিক প্রভাব থাকার কারণে টাইপ ২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি অনেক উপকারী। হলুদ, তেজপাতা ও অ্যালোভেরা জেল জলের সঙ্গে মিশিয়ে দুইবার পান করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য তা উপকার হবে।

করলাঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে করলা খেতে পারেন। কারণ এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দিতে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও এটি ইনসুলিনের নিঃসরণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। দুইবার বা তিনটি করলা নিয়ে এর বীজ গুলি ফেলে দিয়ে রস বের করে নিন। তারপর এ রসের সঙ্গে জল মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে থাকবেন। তাহলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে তা সম্পর্কে জানুন   

দারুচিনিঃ যে সকল রোগীদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস রয়েছে। তাদের জন্য দারুচিনি অত্যন্ত উপকারী।এটি অগ্নাশয় এর ইনসুলিন উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে উদ্দীপ্ত করে এবং রক্তের সুগার লেভেলকে কমিয়ে দেয়। যার কারণে দারুচিনি গুড়া চা, পানি বা অন্য পানির সঙ্গে দারুচিনি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এতে করে টাইপ ২ রোগীদের জন্য উপকারী হবে।

৭২ ঘণ্টায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

৭২ ঘণ্টায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায় সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা ৭২ ঘণ্টায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায় কিনা সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে তা জেনে নেওয়া যাক। যারা দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ কিংবা ইনসুলিন নিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না তাদের জন্য বিশাল সুখবর।

৭২-ঘণ্টায়-ডায়াবেটিস-নিয়ন্ত্রণ-করার-উপায়
কেননা ওষুধ কিংবা ইনসুলিন ছাড়াই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই। ওষুধের ব্যবহার ছাড়ায় শুধুমাত্র ব্যায়াম, খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাত্র ৭২ ঘন্টা বা তিন দিনের ভেতরেয় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব। এমন অনেক রোগী আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ কিংবা ইনসুলিনের ব্যবহারের পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এসব রোগীদের কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশল বা প্রক্রিয়া শিখিয়ে দেয়ার পর তারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে।
তাই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন গ্রহণ করতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, সঠিক খাবার দাবারের ব্যবস্থা এবং মানসিক শান্তির কোন বিকল্প নেই। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর উপায় এবং ডায়াবেটিস কি এবং কত প্রকার এই সম্পর্কেও বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন। 

ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা ওষুধ ছাড়াই কিভাবে ডায়াবেটিস কমানো যায় সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে তা জেনে নেওয়া যাক। আজকাল ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করার জন্য অনেকেই অনেক বেশি ওষুধ খেয়ে থাকে। কিন্তু আপনারা জানলে অবাক হবেন ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যাবে। নিচের আলোচনায় তা তুলে ধরা হলোঃ

শাকসবজিঃ নিয়মিত শাকসবজি খেতে হবে। প্রয়োজনে মাছ মাংসের পরিবর্তে সম পরিমাণ শাকসবজি খেতে হবে। এর ফলেও কিন্তু শরীর থাকবে সুস্থ। আর ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে। যার ফলে খুব সহজেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যাবে।

ভিটামিন সিঃ শাকসবজি যেমন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে থাকে ঠিক তেমনি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গুলো ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে। তাই ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারগুলো নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে। আর এর ফলে হার্ট, চোখও ভালো থাকবে।

ডিমঃ আপনি যদি শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাহলে ডিম খেতে পারেন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে থাকে। তাই প্রতিদিন একটি করে ডিম খাবেন। এক্ষেত্রে আপনারা ডিম সিদ্ধ করে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এভাবে খেলেই সবচাইতে ভালো হয়। ডায়াবেটিসের পাশাপাশি যারা হার্টের রোগী রয়েছেন তারাও নির্ভয়ে ডিম খেতে পারেন।

মটরশুঁটিঃ আপনারা জানলে অবাক হবেন মটরশুঁটিতে গ্লাইসেমির ইনডেক্স খুবই কম। যার কারণে এটি পুষ্টিতে ভরপুর। আর এর কারণেই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মটরশুঁটি দুর্দান্ত উপকারী। তাছাড়াও ব্রকলি খেতে পারেন আপনারা। কারণ এতে কার্বোহাইড্রেট একেবারেই নেই বরং এতে পুষ্টি অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে। যা বিভিন্ন রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে থাকে।

টক দইঃ টক দই নানা রোগের উপকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে এটি খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। যার কারণে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ হয়। এছাড়াও এটি ওজন কমাতে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে থাকে। আপনি যদি এটি নিয়মিত খেতে পারেন তাহলে ডায়াবেটিস সহ অনেক রোগ থেকেই রক্ষা পাবেন।

চিয়া সিডঃ চিয়ার সিডের ভেতর পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। যা আমাদের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে থাকে। এছাড়া এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। নিয়মিত চিয়া সিড খেতে পারলে অনেক ধরনের উপকার পাওয়া যাবে।

আরো পড়ুনঃ মুখের কালো তিল দূর করার ৭টি ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন  

তিসি বীজঃ আমাদের শরীরের জন্য তিসি বীজ অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত এটি খেতে পারলে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, পেশার নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়। এমনকি কোলেস্টেরলের সমস্যাও প্রতিরোধ করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়াও এটি ইনসুলিনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন। 

খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা খালি পেটে ডায়াবেটিস কিভাবে কমানো যায় তার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে তা জেনে নেওয়া যাক। খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায় রয়েছে। যে উপায়গুলো মেনে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যাবে। নিচের আলোচনায় সেগুলো দেখানো হলোঃ

ভৃঙ্গরাজ পাতাঃ একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে ভৃঙ্গরাজ পাতা মূলত অ্যান্টি-ডায়াবেটিস বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। এছাড়াও এই পাতার হাইপোগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অর্থাৎ এটি রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে সহায়তা করে থাকে। তাই এই পাতা যদি সকালে খালি পেটে খাওয়া যায় তাহলে সারাদিন ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সেইসাথে ইনসুলিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই জন্য এই পাতা সকলে খালি পেটে খেতে পারেন।

ইউক্যালিপটাসঃ ইউক্যালিপটাস নিয়ে পরিবেশগত নানা বিভ্রান্ত থাকলেও এটি ডায়াবেটিসের জন্য দুর্দান্ত কাজ করে থাকে। বিশেষ করে এই গাছ-অস্ট্রেলিয়া, ইরান, আফ্রিকাতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই গাছ দিয়ে ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মূলত ইউক্যালিপটাসের তেল এবং পাতা ওষুধের উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই এই গাছকে কাজে লাগিয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারেন।

চিয়া সিড ভেজানো পানিঃ চিয়া সিডে বিভিন্ন ধরনের উপাদান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন এবং ফাইবার। যার কারণে এটি খেলে রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ যাবৎ পেট ভরা থাকে। আর এ কারণেই সকালের নাস্তা করার আগে খালি পেটে এক গ্লাস পানিতে ভেজানো চিয়া সিড খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। যেটি আপনার ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে থাকবে।

টক দইঃ বাড়িতে তৈরি টক দই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, প্রোবায়োটিকস নামক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যেগুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে। বিশেষ করে প্রোটিন গ্লুকোজ শোষণের গতি কমিয়ে দিতে পারে। ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়ে না। যা ডায়বেটিস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। টক দইয়ে চিনির ফ্লেভার এর চাইতে সেখানে দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে দিলে সবচাইতে ভালো হয়।

মেথি ভেজানো পানিঃ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করার জন্য মেথি ভেজানো পানি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মেথি দানায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। যেটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে। এজন্য আপনারা এক গ্লাস পানিতে এক চামচ মেথি ভিজিয়ে সারা রাত রেখে দিবেন। তারপর সকালে খালি পেটে সেই পানি খেয়ে ফেলবেন।

আরো পড়ুনঃ নাকের এলার্জি দূর করার ৮টি ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন     

ভেজানো কাঠবাদামঃ বিশেষ করে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের কোনমতেই খালি পেটে থাকা উচিত নয়। সকালের নাস্তায় রাখতে পারেন কাঠবাদাম। এতে থাকা প্রোটিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে। একই সঙ্গে এটি রক্তের শর্করার মাত্রা স্থির রাখতে সাহায্য করে। আর এজন্যই আপনারা সকালে খালি পেটে কাঠবাদাম ভেজানো পানি পান করতে পারেন। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন। 

ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা

ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে আপনাদের জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো। ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে নিজের ইচ্ছামতো যে কোন খাবার গ্রহণ করলে হবে না বরং একটি স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা তৈরি করে সেই নিয়ম অনুযায়ী খেতে হয়। এতে করে ডায়াবেটিস অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিরোধ করা যায়। আজকের এই পর্বে আমরা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কেমন ধরনের খাবার তালিকা হতে পারে সেগুলো নিচের আলোচনায় দেওয়া হলোঃ

ডায়াবেটিস-রোগীর-খাবার-তালিকা
  • ফলমূল ও শাকসবজি জাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • শ্বেতসার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেমন সেটা হতে পারে লাল বা বাদামি চালের ভাত, লাল আটার রুটি, বা পাউরুটি।
  • প্রোটিন সমিদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেমন সেটি হতে পারে ডিম, মাছ, মাংস, সিম ও অন্যান্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, ডাল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ইত্যাদি।
  • দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। যেমন দই, ছানা ও পনির।
  • বিভিন্ন ধরনের তেল, মাখন, ঘি ইত্যাদি খাবার গুলো খেতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা

ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করার চেষ্টা করবো। চলুন তাহলে তা জেনে নেওয়া যাক। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করার জন্য খাবার-দাবারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এই সময় বিশেষ কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তাহলে চলুন নিচের আলোচনা থেকে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে সেগুলো দেখে নেওয়া যাক।

চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবারঃ

ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো অনেক বেশি ক্ষতিকর। এ ধরনের খাবার গুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। যার ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের বিভিন্ন জটিল রোগ যেমন হৃদরোগ, কিডনি এবং স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। তাই চিনি জাতীয় খাবার যেমন চকলেট, মিষ্টি, কেক, বিস্কুট ইত্যাদি সম্পন্ন রূপে বর্জন করতে হবে। তাই যারা ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী রয়েছে তারা এ সকল চীনযুক্ত খাবার না খেয়ে ফল, সবজি ও পুরো শস্যে প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি উপাদান থাকে এই খাবারগুলো ফাইবার ও থাকে। যা রক্তের শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে সাহায্য করে। এ সকল খাবার গুলো খাওয়া যেতে পারে।

চর্বিযুক্ত/তেলে ভাজা খাবারঃ

ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য চর্বিযুক্ত খাবার বা তেলে ভাজা খাবার সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো এবং বাদামে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খেতে পারে। এগুলো শরীরের জন্য উপকারী। এগুলো কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে থাকে।

দুধের তৈরি খাবারঃ

ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য দুধের তৈরি খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কেননা এ সকল খাবারগুলোতে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকলেও অনেক খাবারে উচ্চমাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। এ ধরনের ফ্যাট রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাথা বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে কম চর্বিযুক্ত দুধ এবং দই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী হতে পারে। দিনে এক গ্লাস কম চর্বিযুক্ত দুধ খাওয়া সাধারণত ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য নিরাপদ হতে পারে। 

লবণঃ

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য লবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

শুকনো ফলঃ

শুকনো ফল সাধারণত ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য নয়। কারণ শুকনো ফলে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। যার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে এটি। আর এর ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুকনো জাতীয় ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

আরো পড়ুনঃ চোখের ছানি দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আশ্চর্যকর তথ্য জানুন     

এছাড়াও প্রক্রিয়াজাত মাংস, দুধ চা বা কফি, কিসমিস ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের এ সকল খাবার গুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এ সকল খাবার গুলো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এ সকল খাবারগুলো থেকে দূরে থাকাই এই সময় বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন। 

লেখকের শেষ কথা 

উপরের আলোচনা থেকে আমরা তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এসেছি। আমরা আরও জানতে সক্ষম হয়েছে ডায়াবেটিস কি এবং কত প্রকার এই সম্পর্কেও। বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস একটি ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। দিন দিন এ রোগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। তাই যাদের এ ধরনের রোগ রয়েছে তারা কিছু নিয়মকানুন মেনে জীবন যাপন করতে পারলেই এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।

তাই এই রোগ অবহেলা না করে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে জীবন যাপন পরিচালনা করার চেষ্টা করুন। আমি উপরের আলোচনায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধের যাবতীয় উপায় গুলো খুব সুন্দরভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আপনারা যদি উপরের আলোচনাটি ভালোভাবে পড়তে পারেন তাহলে ডায়াবেটিস রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারবেন। আশা করছি উপরের আলোচনাটি পড়ার মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রিটেক্স আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url